Sunday, January 19, 2014

মনোযোগ দিয়ে পড়ি, বোঝার চেষ্টা করি......... 

১. ১০০ টাকা মসজিদে কতই না বড় দেখায়, অথচ শপিংমলে কত না ছোট !

২. মসজিদে দুই ঘণ্টা ইবাদত করা কত দীর্ঘ সময়, কিন্তু সিনেমা হলে তা দ্রুতই শেষ হয়ে যায় !

৩. তারাবীহ নামাজে দীর্ঘ ১ ঘণ্টা সময় লাগে, অথচ একটা ফুটবল ম্যাচ মাত্র ৯০ মিনিট !

৪. একটু ক্রিকেট ম্যাচ অতিরিক্ত সময় অতিবাহিত হলে কিছুই মনে হয় না বরং উত্তেজনক… কিন্তু জুম’আর খুতবা একটু দীর্ঘায়িত হলে তা বিরক্তিকর !

৫. কোরআনের একটি আয়াত পড়া খুবই কষ্টকর মনে হয়, অথচ ২০০ পৃষ্ঠার উপন্যাস, গল্পের বই পড়া কত সহজ !

৬. কনসার্ট বা খেলার মাঠে সামনের আসনে বসার জন্য উদগ্রীব হই, অথচ মসজিদে পিছনের কাতারে বসতেও ইস্তত বোধ করি !

৭.  সংবাদ পত্রের খবর আমরা কত সহজে বিশ্বাস করি, কিন্তু দুঃখের বিষয় আল্লাহ্‌র বাণী, কোরআনের একটি আয়াত বিশ্বাস তথা মান্য করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয় !

৮. বিজ্ঞাপনের নোংরা লিফলেট অথবা অশ্লীল বিষয় কত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু আল্লাহ্‌র বাণী প্রচার করতে আমরা হাজার বার চিন্তা করি !

সুতরাং আসুন মুসলমান ভাই ও বোনেরা চিন্তা করি আমাদের মুসলমানদের অবস্থান কোথায়।

সংগ্রহঃ মোহাম্মাদ কামরুল আহসান [ সংক্ষিপ্ত পরিমার্জিত ]

Friday, January 17, 2014


নেদারল্যান্ডের মনোবিজ্ঞানী ভ্যান্ডার হ্যাভেন প্রবিত্র কোরআন অধ্যয়ন ও বারবার ‘আল্লাহ্‌’ শব্দটি উচ্চারণে রোগী ও স্বাভাবিক মানুষের ওপর তার প্রভাব সম্পর্কিত একটি আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করেছেন। ওলন্দাজ এই অধ্যাপক বহু রোগীর ওপর দীর্ঘ তিন বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে অনেক গবেষণারপর এই আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করেন। যেসব রোগীর ওপর তিনি সমীক্ষা চালান তাদের মধ্যে অনেক অমুসলিমও ছিলেন, যারা আরবি জানেন না। তাদের পরিষ্কারভাবে ‘আল্লাহ্‌’ শব্দটি উচ্চারণ করার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এই প্রশিক্ষণের ফল ছিল বিস্ময়কর, বিশেষ করে যারা বিষণ্ণতা ও মানসিক উত্তেজনায় ভুগছিলেন তাদের ক্ষেত্রে। সৌদি আরব থেকে প্রকাশিত দৈনিক আল-ওয়াতান প্রত্রিকা হ্যাভেনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, আরবি জানা মুসলমানরা যারা নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করেন তারা মানসিক রোগ থেকে রক্ষা পেতে পারেন। ‘আল্লাহ্‌’ কথাটি কিভাবে মানসিক রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে তার ব্যাখ্যাও তিনি দিয়েছেন। তিনি তার গবেষণা কর্মে উল্লেখ করেন, ‘আল্লাহ্‌’ শব্দটির প্রথম বর্ণ আলিফ আমাদের শ্বাসযন্ত্র থেকে আসে বিধায় তা শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি আরও বলেন, লাম বর্ণটি উচ্চারণ করতে গেলে জিহ্বা উপরের মাড়ি সামান্য স্পর্শ করে একটি ছোট বিরতি সৃষ্টি করে এবং তারপর একই বিরতি দিয়ে এটাকে বারবার উচ্চারণ করতে থাকলে আমাদের শ্বাসযন্ত্রে একটা স্বস্তিবোধ হতে থাকে। শেষ বর্ণ হা –এর উচ্চারণ আমাদের ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের মধ্যে একটা যোগসূত্র সৃষ্টি করে তা আমাদের হৃদযন্ত্রের স্পন্দনকে নিয়ন্ত্রণ করে।

—সংগ্রহকৃত—

সৌজন্যঃ আবিশার১৪
হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা শাহ আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) –এর বিশিষ্ট খলীফা মুহিউস সুন্নাহ, বর্তমান শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক ছাহেব (রহঃ) বলেন, আপনারা বাজার হতে যখন গোশত বা কোন পণ্য খরিদ করে আনেন, তখন সেটাকে অত্যন্ত হিফাযতের সাথে ঢেকে আনেন, যাতে চিল ইত্যাদি উক্ত গোশত নিতে না পারে। তেমনিভাবে একশত টাকার নোট ভিতরের পকেটে সীনার সাথে মিলিয়ে রাখেন, যাতে চোর পকেট কেটে টাকা নিতে না পারে। খাদ্যদ্রব্যকেও ঢেকে রাখা হয়, যাতে ইঁদুর, বিড়াল ইত্যাদি প্রাণী তা খেয়ে না ফেলে।
এখন আপনারাই বলুন ! মহিলাদের মূল্য কি আপনাদের নিকট এক সের গোশত, একশত টাকার নোট বা সামান্য খাদ্যদ্রব্যের মূল্যের চেয়েও কম যে মহিলাদের হিফাযতের  জন্য পর্দায় রাখতে আপনারা যত্নবান নন ?
অপরদিকে গোশত নিজে উড়ে চিলের নিকট, একশত টাকার নোট চোরের নিকট, খাদ্যদ্রব্য ইঁদুরের গর্তে একা যেতে পারে না। তা সত্ত্বেও এত হিফাযতের  ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু মহিলাদের তো নিজেদের উড়ার ক্ষমতা রয়েছে অর্থাৎ মহিলাদের কারো প্রেমের জালে আবদ্ধ হয়ে পলায়নের ক্ষমতা রয়েছে। এরপরও কি তাদের দ্বীনি তা’লীম ও পর্দার ব্যবস্থা দ্বারা হিফাযতের প্রয়োজন নেই ?
অনেকেই আমরা নিজেদের বুদ্ধিজীবী দাবী করি। সত্যিকারার্থে বুদ্ধিজীবী হয়ে থাকলে চিন্তা করে দেখা উচিত যে, মহিলাদেরকে পর্দায় রাখার প্রয়োজন আছে কিনা ?  [মাজালিসে আবরার পৃষ্ঠা ৩২]
তাছাড়া দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তি ও মহিলাদের হিফাযতের জন্যই আল্লাহ্‌ তা’আলা পর্দার বিধান চালু করেছেন। পর্দাই নারীর সারা জীবনের নিরাপত্তার চাবিকাঠি। কারন, মানুষের রূপ-লাবণ্য, সৌন্দর্য ও যৌবন ক্ষণস্থায়ী, যৌবনের রূপ-লাবণ্যের আকর্ষণ বার্ধক্যে আর থাকে না। সুতরাং, স্ত্রী বার্ধক্যে উপনীত হলে তার প্রতি স্বামীর যৌন আকর্ষণ ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে।
এ পরিস্থিতিতে পর্দার বিধান না থাকলে স্বামী রাস্তার বেগানা যুবতী মহিলাদের রূপ-লাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে তার পিছনেই দৌড়াবে, তাদেরকে নিয়েই ব্যস্ত থাকবে, জীবন সঙ্গিনীর কোন খবরই নিবে না। পরিশেষে বৃদ্ধা বয়সে মহিলাদের পরিণাম এই দাঁড়াবে যে, সুখের জীবন আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলবে। বার্ধক্যে তার দেখাশোনার কেউ থাকবে না, অথচ বার্ধক্যে দেখাশোনার প্রয়োজন আরো বেশি।
সুতরাং কোরআন-হাদীস ছাড়াও যুক্তি বা বিবেকের দাবীও এটা যে, পর্দা নারী জাতির ইজ্জতকে হিফাযত করে; তাদের জীবনকে করে সুখময়।
তাছাড়া পর্দা কখনো মহিলাদের জন্য অপমানজনক নয়। আপনি স্বর্ণ-রূপা, হীরক খণ্ড কিভাবে লোকচক্ষু থেকে আড়াল করে হিফাযত করেন ? আলমারীর সিন্দুক, তার মধ্যে কুঠরী, তার মধ্যে ঐগুলোকে রাখেন। এতে কি ঐসব বস্তুর অবমাননা হয় ? না-কি সেগুলো অতিমূল্যবান হওয়া প্রমাণিত হয় ? পর্দার বিষয়টি ঠিক অনুরূপ। তাদের অধিক মূল্যবান (এমন কি নবী-অলীগণও তাদের পেতে জন্ম নিয়েছেন) হওয়ায় তাদের হিফাযতের লক্ষ্যে পর্দার হুকুম দেয়া হয়েছে।

সংগ্রহঃ [কিতাবুস সুন্নাহ, শর’ই পর্দা অংশ থেকে] 
সৌজন্যঃ আবিশার১৪